Side_bar_Ads01

Lorem Ipsum is simply dummy text of the printing and typesetting industry. Lorem Ipsum has been the industry's.

ads2

https://www.profitablecpmrate.com/xi01n355a?key=ac93b1bb4905f5b545732410f2c32d78

ads-s

https://www.profitablecpmrate.com/xi01n355a?key=ac93b1bb4905f5b545732410f2c32d78

Ads5

Iframe sync

Ad3

https://www.profitablecpmrate.com/bd9b9aumeg?key=21686ea6a6fd9901626f94ae2b5808ef

AdsNew02

Ads1

ads9

https://www.profitablecpmrate.com/bd9b9aumeg?key=21686ea6a6fd9901626f94ae2b5808ef
https://amarprothompochonda.blogspot.com/?m=1

Popular Posts

Direct Ads 2

https://www.profitablecpmrate.com/bd9b9aumeg?key=21686ea6a6fd9901626f94ae2b5808ef

এড১

এখানে ক্লিক করুন

Facebook

ক্লিক করুন

Subscribe Us

Most Popular

Popular Posts

খেলা হবে

 

খেলা হবে



সকাল থেকেই এত তাড়াতাড়ি বেরোতে হবে, এ নিয়ে একটু চাপা টেনশনে ভুগছে দূর্গা এবং যে রাস্তা দিয়ে যাবে তা নিয়েও তাঁর মনটা চঞ্চল হয়ে আছে।

আজ কেন জানি মনে হচ্ছে -

"অতীতের স্মৃতি বড় সুখময়,

তবে স্মৃতি আঁকড়ে বেঁচে থাকা, ভালো না মন্দ তা

আমার জানা নেই।"


“হ্যাঁ বলো রতন। সব রেডি? টাইম ঠিক ৮ টা কিন্তু। “ 


“ইয়েস ম্যাম। সব কথা হয়ে গেছে। তবে রুটটা একটু চেঞ্জ হয়েছে। একটা মিছিল আছে তাই বাধ্য হয়ে…” 


“ওকে ওকে। সে পরে দেখে নিচ্ছি। যে পেপার গুলো নিতে বলেছিলাম সঙ্গে থাকে যেন। চল ৮ টায় দেখা হচ্ছে। “

ফোনটা সোফায় ফেলে হাতঘড়িটা পরে নিল দূর্গা আজ একটা বড়ো সড়ো মিটিং আছে, আজকের মিটিংটা সাকসেসফুল হওয়া ভীষণ ভীষণ জরুরি। খানিকটা দুধ কর্নফ্লেক্স একটা বাটিতে নিয়ে নিল ও, এখন কোনোরকমে এটাই গলাধঃকরণ করতে হবে। আর কিছু খাওয়ার মতো সময় ও নেই, মানসিকতাও নেই। কোনোদিন টেনশন করে না ও, তবে আজ একটু হলেও নার্ভাস ও। গীতা মাসি আসতে আসতে এখনও এক ঘন্টা। ইচ্ছে করেই আগে আসতে বলেনি মাসিকে। মাসি থাকলে এতক্ষণে জোগাড়যন্ত্র করে দূর্গাকে খেতে বসিয়ে দিতো। মাসির মেয়েটা মারা যাওয়ার পর থেকে মায়ের মতোই খেয়াল রাখে দূর্গার। ওর ও শূণ্যস্থানটা পূরণ হয়। মায়ের সাথে দেখা হয় ন মাসে ছ মাসে। কিছুতেই ওর কাছে এসে থাকতে চায় না। কতবার বলেছে ও, তাও কোনো লাভ হয়নি। চামচটা মুখে তুলতে তুলতেই জানলার পাল্লা টা সজোরে ধাক্কা মারলো, একটু অন্যমনস্কই ছিল দূর্গা।বাইরে যে বেশ মেঘ ঘনিয়েছে এতক্ষণ খেয়ালই করেনি ও। সেই সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়ার দাপট। সেই হাওয়াতেই পাল্লাটা পড়ল, জানলার সামনের শোপিসটা গড়াগড়ি খাচ্ছে মাটিতে। ভাগ্যিস ভাঙেনি। তুলে রাখতে গিয়ে তাকালো শোপিসটার দিকে। এটা ওকে রমা গিফট করেছিল প্রথম বার। নিজের মনেই খানিক হেসে জানলাটা বন্ধ করে দিলো এবার ও। আজ এতটা জার্নি তার উপর এই মেঘলা আবহাওয়া ওর খুব পছন্দের। ওদের ফ্ল্যাটের আকাশছোঁয়া উচ্চতার সাথে পাল্লা দিয়ে এখনও কোনো ফ্ল্যাট নেই এদিকটায়। যত নীচে চোখ যায় সবুজ গাছগাছালি, ব্যস্ত রাস্তা আর ব্যস্ত শহর। জোরে একটা শ্বাস নিল ও। নাহ আর দেরি করা যাবে না। রমাকে একটা মেসেজ পাঠিয়ে দিল ঝট করে। রাস্তায় টাওয়ার না থাকলে ও আবার দূর্গাকে ফোনে না পেয়ে টেনশন করবে। আর এখনও রমার ঘুম থেকে ওঠার সময় হয়নি, তাই আর ফোন করে ঘুমটা ভাঙালো না ও। তাড়াতাড়ি নিজে রেডি হতে লাগলো দূর্গা, আর ১৫ মিনিট পরই রতন চলে আসবে।  

********** 


“ম্যাম খেয়ে দেখতে পারেন, এখানকার চা টা কিন্তু দারুণ।” বলে হেসে তাকাল রতন দূর্গার দিকে। চা এর নেশা কোনোকালেই নেই ওর, খুব ঠান্ডায় ঠেকায় পড়ে কখনো সখনো খায়। দূর্গা কাঁচের ভিতর থেকেই মাথা নেড়ে তাড়াতাড়ি করতে বলল ইশারায়। ড্রাইভার কাকা আর রতন ধাবাটার ভিতরে চলে গেল দ্রুত বিল মেটাতে। ওরা সকাল থেকে কিছু খেয়ে আসেনি, একটু দাঁড়িয়ে চা জলখাবার খেল। দূর্গা বার বার ঘড়ি দেখছিল, আকাশটা এখন একটু পরিষ্কার তবে কতক্ষণ এরকম থাকবে বলা মুশকিল। যত তাড়াতাড়ি পৌঁছানো যাবে একটু বিশ্রাম নিয়ে মিটিং এ বসা যাবে। ও রাস্তার খাবার বিশেষত এসব রোডসাইড ধাবার খাবার একদমই এড়িয়ে চলে। সঙ্গে শুকনো খাবার আছে দরকার হলে খেয়ে নেবে না হয়। ফোনটা একবার চেক করল। না রমার কোনো কল বা মেসেজ নেই এখনও । মেইলটা একবার চেক করে নিল, ওদিকে রতনরা এদিকেই আসছে ততক্ষণে। গাড়ি থেকে নামেনি আর ও, কিন্তু এখন বাইরেটা তাকিয়ে মনে হল নামাটা দরকার ছিল। মেঘলা আকাশ, চারপাশের স্থানীয় মানুষগুলো সকাল থেকেই নিজেদের রুজি রুটির জোগাড়ে নেমে পড়েছে, দোকানের ঝাঁপ খুলে সবাই খদ্দের সামলাতে ব্যস্ত। আশেপাশে ছোট খাটো দোকান কটা। তবে ঝোড়ো হাওয়া বইছে খুব, সেই হাওয়ায় দোকানের সামনের ত্রিপল প্রায় উরু উরু। সামনেই অনেকগুলো নাম না জানা গাছ দাঁড়িয়ে, ঘন সবুজ পাতায় ভরা ডালগুলো একবার নুইয়ে পড়ছে মাটিতে, পরক্ষণেই সোজা হয়ে মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে আবার। নাম না জানা ফুলে ভরে গেছে রাস্তাটা। সূর্য মেঘের আড়াল থেকে উঁকি মারছে মাঝে সাঝে। সামনেই দু তিনটে কুকুরছানা খেলে বেড়াচ্ছে এদিক ওদিক, সামনের গাছের গুঁড়ির কাছে গিয়ে উপরে ওঠার ব্যর্থ চেষ্টা করছে ছোট্ট ছোট্ট পায়ে, এরকম মাতাল হাওয়া সাধারণত সমুদ্রের ধারে দেখা যায়, আর এই পাগল হাওয়ার সাথে বহুদিনের পুরোনো স্মৃতি জড়িয়ে আছে দূর্গার। খানিকক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে উপভোগ করতে মন চাইছিল আজ অনেক দিন পর, কিন্তু হাতে সময় বড় কম। এই ঘোড়দৌড়ের জীবনে সময় টাই বড় কম হাতে। একটু প্রকৃতির দিকে মন ভরে তাকানোর সময় ও যে নেই। অথচ এ দূর্গাই এই প্রকৃতি, এই সবুজের মাঝে নিরালায় থাকতে বড় ভালোবাসত। 


রতন আরেকবার ডাক দিল। মিটিং এর আগে সাধারণত এরকম অন্যমনস্ক ও সচরাচর হয় না ও। কিন্তু আজ এই নির্মল পরিবেশটাই যেন সমস্ত হিসেবে নিকেশ ভুলিয়ে দিয়ে যাচ্ছে। আর দেরি করা যাবে না। এবার বেরোতেই হবে। গাড়িতে উঠে পড়ল ওরা।

         **********************

গাড়ি চলতে চলতে কখন যে চোখ লেগে গেছিল দুর্গার কে জানে। প্রতিটা লং জার্নির এই সময়টাকেই ও ভীষণ সুন্দর ভাবে ব্যবহার করে নেয়, বাইরে প্রকৃতিটা কে মন প্রাণ ভরে দেখে। নয়তো বাকি দিন গুলোয় মেইল, মিটিং, ল্যাপটপ এসবের বাইরে মুখ তোলার সময়টুকুই বা কোথায় থাকে। আজকেই যা কোনভাবে চোখটা লেগে গেল ওর। আর চোখটা খুলতেই যেন একসাথে অনেকগুলো ধূসর স্মৃতি পরপর ভিড় জমাতে লাগল মাথার মধ্যে। এই জায়গাটা অনেক বদলে গিয়েও অনেকটা এক রয়ে গেছে যে। মারাত্মক অস্বস্তি হচ্ছিল দূর্গার, কিন্তু react করতেও পারছিল না। কি বলবে? একটা রাস্তা ছেড়ে অন্য রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে বলে কিই বা বলা যেতে পারে? জোরে শ্বাস নিল ও একবার, নিজেকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করল। রতনের দিকে তাকাল এবার। 


“এই রাস্তা দিয়ে তো যাওয়ার কথা ছিল না রতন। “ 


এটুকুই বলল শুধু, রতনের দিকে সরাসরি তাকিয়ে মাথা নেড়ে জানতে চাইল দূর্গা। 


এতদিন ম্যাডামের সাথে কাজ করার সুবাদে কখন ম্যাডাম ভালো মুডে আছেন আর কখন ঝড়ের পূর্বাভাস সেটুকু বোঝে রতন। এখন বেশি কিছু বলা যে উচিত হবে না তা ম্যাডামের শক্ত চোয়াল দেখেই বুঝে নিয়েছে ও। তাও উত্তরটুকু তো দিতে হবে, আমতা আমতা করে বলল, ” আসলে ম্যাডাম এই রাস্তা দিয়ে হাইওয়ে ধরলে অনেকটা সময় বাঁচছে দেখলাম, নয়তো মিছিলের জন্য এমনিতেই অনেকটা… ” আর কিছু বলতে পারল না উত্তম। হাতের ইশারায় ওকে চুপ করতে বলল দূর্গা। আর কিছু বলার ক্ষমতা ওর নেই কাজেই চুপ করে গেল ও। একবার খালি আড়চোখে ম্যাডামের মুখটা দেখে বোঝার চেষ্টা করল ওর উত্তরে ম্যাডাম আদৌ প্রসন্ন হল কি? কিন্তু মুখের ভাবভঙ্গি তে তো তা মনে হল না। চোখ দুটো একবার বুজল দূর্গা। ভীষণ জ্বলছে চোখদুটো, কেউ যেন লঙ্কাবাটা ঘষে দিয়ে গেছে দুই চোখে। অনেকগুলো সাদাকালো ছবি পরপর ভিড় জমেছিল বন্ধ চোখের ওপারে। না, ছবি গুলো রঙিন নয়, সাদাকালোই। চোখ দুটো খুলে ফেলল ও, চোখ দুটো যে ভিজে সেটা বুঝতে পারা মাত্রই ব্যাগ থেকে রুমালটা নিয়ে নিজেকে তৎক্ষণাৎ সামলে নিল ও। সিগনালে দাঁড়ালো গাড়িটা, সামনেই একটা মন্দির আছে জানে ও। খুব জাগ্রত, বহু মানুষ আসেন এখানে পুজো দিতে। পুজো দিয়েই ফিরছে মনে হয় এক মা তার ছোট্ট ছেলে কে সঙ্গে নিয়ে। দূর্গাও এসেছে এই মন্দিরে পুজো দিতে, পার্থর সাথে ! 


********** 


গাড়ির বিকট হর্ণে জেগে উঠল যেন ও, কোথাও যেন হারিয়ে যাচ্ছিল আবার। পাশের গাড়িটা হর্ন বাজাল ভাগ্যিস। আর দাঁড়াল না ওরা, এগিয়ে গেল খানিকটা। আনন্দপুরের কত কিছু আজ বদলে গেছে। আগে এত দোকানই ছিল না, শপিং মল হয়েছে কতগুলো। কত ফাস্ট ফুড মোমো পিৎজার দোকান, এসব কিছু ছিল না আগে। যদিও সময় টাও তো বয়ে গেছে অনেকটাই, ঝট করে হাতের কর গুনে নিলো একবার, এগারো বছর পেরিয়ে গেছে ! বদলানো তো স্বাভাবিক। সময় তো আর দাঁড়িয়ে নেই। হু হু ছুটে চলেছে ওর গাড়ি, গাড়ির কাঁচটা নামিয়ে আনন্দপুরের বাতাসটা কি একবার অনুভব করবে হাতের আঙুলে ? আর কখনো আসা যদি না হয়? আর যদি সুযোগ না আসে? খানিক ভেবে জানলার কাঁচ টা খুলল এবার অয়ন্তিকা। আঙ্গুলগুলো বের করে ছুঁয়ে নিল আনন্দপুরের বাতাসটাকে। 


“ac টা অফ করো তো রতন, বাইরে দারুণ হাওয়া দিচ্ছে।” জানলার কাঁচটা খুলে দিল দূর্গা। রতন খানিক অবাকই হল, ম্যাডামের এরকম আচরণ এত বছরে ও কখনও দেখেনি। দূর্গা ম্যাডামকে বরাবর এই সবকিছুর থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখতেই দেখেছে রতন, বড় মানুষের বড় বড় ব্যাপার ! আজ সেই মানুষটারই এরকম ভিন্ন আচরণে অবাক হওয়াই স্বাভাবিক। তবে কিছু প্রশ্ন করার ক্ষমতা নেই ওর, চুপচাপ ac টা বন্ধ করে দিল ও।

            ******************

এই জায়গাটায় কিছু আগে হয়তো বৃষ্টি হয়ে গেছে, মাটির সোঁদা গন্ধ টা নাকে লাগল দূর্গার, খুব প্রিয় এই গন্ধটা ওর। একটা সময় এই আনন্দপুরের সব কিছুই ওর খুব ভালো লাগতো। এখানকার মানুষজন ,তাদের ভাষা, তাদের জীবন যাত্রা সব কিছুই অনেক আলাদা ছিল, তাও খুব ভালো লাগত ওর। হয়তো ভালো লাগার কারণটা পার্থই ছিল। এই তো সামনের রাস্তাটা পেরিয়েই সম্ভবত ওই পার্কটা, কি যেন নাম ছিল। অনেক গুলো বিকেল, অনেক সূর্যাস্ত ওখানে একান্তে কাটিয়েছে ওরা দুজন। চলতে চলতে বেশ জোরে ব্রেক কষল ওদের গাড়িটা আবার, বিরক্ত হয়ে তাকাল ও, ড্রাইভার কে কিছু বলার আগেই সামনের দিকে তাকিয়ে দেখল দূর্গা, ড্রাইভার কে বিশেষ কিছু বলার নেই এখানে। আপন খেয়ালে একটি গরু দাঁড়িয়ে রয়েছে রাস্তার মাঝে। অগত্যা পাশ কাটিয়ে এগোল আবার গাড়িটা। আজ ভাবতেও অবাক লাগে একদিন এখানেই থাকতো দূর্গা, আজ ভাবলেও… কি ভাবে পারতো ও? অথচ এখন যে ওই ইট কাঠ পাথরে ঢাকা ধূসর নগরী থেকে বেরিয়ে এই সবুজে ফিরতেই ওর ইচ্ছে করে সেটা ও কি করে অস্বীকার করবে? একদিন স্বেচ্ছায় এই সবুজকে ছেড়ে ওই অফিসের কেবিন, প্রতিদিনের ইঁদুরদৌড়, ঘুম না আসা রাত, ধূসরটাকে আপন করে নিয়েছিল ও। সামনের মোড়টাতে একটা ছেলে আর একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আইসক্রিম খাচ্ছে, একটা ছাতার তলায় দাঁড়িয়ে। এই দৃশ্যটা যেন ভীষণ রকম পরিচিত, এক নিমেষের মধ্যে ওই ছেলে মেয়ে দুটোকে না, সেই জায়গায় নিজেকে আর পার্থকেই দেখছিল ও। কম বয়সে ঐ মেয়েটার মতোই দেখতে ছিল তো ওকে, তখন তো এত পরিচর্যা , এত বহুমূল্য প্রসাধন এসবের বালাই ছিল না। এতটাই সাধারণ, সাদামাটাই ছিল দূর্গাও। বিয়ের পর নতুন বৌ কপালে সিঁদুর, শাঁখা পলা নোয়া এইসব নিয়েই ওর সাজ সম্পূর্ণ হতো। পার্থ বলত ওকে শাড়ি পড়লে নাকি ভীষণ সুন্দর লাগে, শাড়ি পড়তে জানত না দূর্গা, শাশুড়িমা-ই সাজিয়ে দিতেন। বড় ভালোবেসে আগলে রাখতেন ওই মানুষটাও। ওই দেখো, ওই দোকান টা! এই দোকান থেকে কত বার কত কি কিনে খাতায় লিখিয়ে যেত ও, কি নাম ছিল যেন কাকুর? ও হ্যাঁ, রমেন কাকু, ভীষণ স্নেহ করতেন দূর্গাকে। এখনও কি আছে রমেন কাকু? দোকানটা আগের থেকে বড় হয়েছে। আগে শুধু কেক চকলেট চিপস ই থাকতো এখন তো অনেক কিছু সাজানো।

“এই একটু দাঁড়াও তো ” ড্রাইভারকে দাঁড়াতে বলে একঝলক দেখল ও, পুরোনো স্মৃতির নির্যাসটা খুঁজছিল হয়তো মনে প্রাণে। 


“ম্যাম এখান থেকে কিছু নেবেন কি? নিয়ে আসব?” স্বভাবতই ব্যস্ত হয়ে পড়েছিল রতন, হাতের ইশারায় চুপ করতে বলল ওকে দূর্গা বসু। একমনে তাকিয়ে ছিল ও, কত্ত বুড়ো হয়ে গেছে মানুষটা! কুঁজো হয়ে গেছেন, সঙ্গে একজন আরো রয়েছেন দোকানে, মুখের মিল আছে, ছেলে হয়তো, রমেন কাকুর বয়সের ভারে নুইয়ে যাওয়া শরীরটা, পাকা দাড়ি গোঁফ চুল আরো ভালো করে যেন বুঝিয়ে দিল কতটা সময় পেরিয়ে এসে আজ আবার এখানে দাঁড়িয়ে দূর্গা। নিষ্পলক দৃষ্টিতে চেয়ে রইল কিছুক্ষণ ও, হঠাৎ করে দোকানের সামনে এত বড় দামি একটা গাড়ি দাঁড়িয়ে রয়েছে দেখে রমেনকাকু ও যেন খানিক পরে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করলেন কিছু। কিন্তু কাঁচের ওপারে তো কিছুই চোখে পড়ল না। 


না, এবার এগোনো উচিত, নিজেকে এটাই বলল দূর্গা। যত থাকব তত জড়িয়ে পড়ব আবার। 


“চলো রতন ।” আর না দাঁড়িয়ে এগোল দূর্গা বসুর মার্সিডিস। চোখ দুটো চেষ্টা করেও বন্ধ করতে পারছে না ও, মনের মধ্যে অদ্ভুত একটা অনুভূতি কাজ করছে, আর যদি দেখতে না পায়! অথচ এইসব কিছু থেকে ও তো বেরিয়ে গেছে বহুদিন। তাহলে কি আসলে ও পারেনি বেরোতে আজ ও ? ওর আর পার্থর ভেঙে যাওয়া সংসার টা এখনো কি কোথাও ছিটেফোঁটা হলেও জড়িয়ে রেখেছে ওকে এই আনন্দপুরের সাথে? তা কি করে হয়? ও তো স্বেচ্ছায় এই আনন্দপুর, সেন বাড়ি, পার্থ সব কিছু ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিল। রমার সাথে ওর বিগত সাত বছরের সুখী দাম্পত্য। তাহলে এসবের মানে কি? পার্থ আর ওর ছয় বছরের প্রেমের বিয়েটা কেন যে ভেঙেছিল তা বাইরের লোকজন সমাজ তো বটেই ,ওর নিজের কাছেও এখনও ধোঁয়াশা। পার্থ আর ওর পরিবার তো সবদিন সবরকম ভাবে দূর্গাকে সাপোর্ট করেছিল, ওর পড়াশোনা, ক্যারিয়ার, কোনোকিছুতেই কখনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি, বাধা আসতেও দেয়নি। তাও যে কিভাবে একটা পারফেক্ট সম্পর্কের মধ্যেও একটু একটু কুরে ঘুন ধরে গেল কে জানে।পার্থই প্রথম এসে ওর থেকে মুক্তি চেয়েছিল একদিন , আর দূর্গাও না করেনি। যেন পার্থর বলারই অপেক্ষা করছিল ও ,নাকি দূর্গার কথা বুঝেই পার্থ এসে বলেছিল প্রথমে? না ,জানতে চায়নি ওরা দুজন দুজনের কাছে, শুধু মেনে নিয়েছিল নিঃশব্দে, আলাদা হয়ে গেছিল দুজন। আলাদা হতে গিয়ে ও তো অনেক বিনিদ্র রাত কাটিয়েছে দূর্গা, সাইকিয়াট্রিস্ট এর সাহায্যও নিতে হয়েছিল ওকে, তাও যেন মনে হয়েছিল একসাথে নয়, বরং আলাদাই ভালো থাকবে ওরা। পার্থ আর ওর মধ্যে ঠিক কি হয়েছিল তা এখনো ওদের সমস্ত আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে একটা বিরাট প্রশ্ন। কিন্তু কিছুই তো হয়নি আসলে। একটা সম্পর্ক বরফের মতন শীতল হতে হতে মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছিল, কেন তা জানে না ও। এত দূরত্ব কি ভাবে এলো ওদের মাঝে তার জন্য অনেকবার নিজেকে ক্ষতবিক্ষত করেছে দূর্গা, কিন্তু উত্তর মেলেনি। না কোনো তৃতীয় ব্যক্তির উপস্থিতি ও নয়। তাহলে? নিজের লক্ষ্যের পিছনে এত দ্রুত গতিতে দৌড়েছিল দূর্গা, পার্থ কি আর তাল মেলাতে পারলো না ওর গতির সাথে? বিনা বাক্যব্যয়ে বিনা অভিযোগে সবাইকে অবাক করে দিয়ে, প্রিয় মানুষ গুলোর চোখের জল ফেলিয়ে আলাদা হয়ে গেছিল ওরা সেদিন।

             ********************

বামপাশের রাস্তাটা পিছনে ফেলে সামনের মোড়ের দিকে এগিয়ে গেল ওদের গাড়িটা। রাস্তাটার দিকে হাঁ করে তাকিয়েছিল দূর্গা। অদ্ভুতরকম ভাবে আর ওর চোখে মুখে আর সেই বিরক্তি ভাবটা নেই, তা পাল্টে যেন আরো একবার ফেলে আসা দিন গুলো চোখের দেখা দেখে নেয়ার আকুতি। পেরিয়ে অনেকটা এগিয়ে গেছে গাড়িটা, কিন্তু কিছুতেই ওর মনটা শান্ত হচ্ছে না কেন? যা হবে হোক ,নিজের সমস্ত শক্তি একত্র করে বলল দূর্গা," গাড়িটা ইউটার্ন নাও তো রতন ওই বাম দিকের রাস্তা টা ধরো। “ 


” কিন্তু ম্যাম ওটা শর্ট হবে না ইনফ্যাক্ট অনেকটা ঘুরতে হবে… “ 


“যা বলছি সেটা করো রতন, ওই রাস্তাটা নাও। “ 


নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে কথা কটা বলে দিলো দূর্গা। দূর্গা বসুর কথার অমান্য করার সাধ্যি এখন কজনেরই বা আছে ? ঘুরে এসে বাঁক নিলো ওর গাড়িটা , মনের ভিতর কি যে অনুভূতি হচ্ছিল ওর কাউকে বলে বোঝাতে পারবে না ও। আচ্ছা রতন কি ম্যাডাম কে পাগল ভাবছে ? যে যা ভাবে ভাবুক, কে কি ভাবল সে নিয়ে আর এখন দূর্গা বসু মাথা ঘামায় না। সামনে একটা বড়সড় দল যাচ্ছে, মনে হয় কারো বিয়ে সেই উপলক্ষে কিছু হচ্ছে। সামনের দিকে তাকিয়ে খানিক চিন্তিত মুখেই রতন বলল , “একে সরু রাস্তা এদিকটায়, তার মধ্যে এদের বিয়ে বাড়ির অনুষ্ঠান চলছে। এতবার হর্ন মারছি তাও কোনো দিক্পাত নেই, কি আশ্চর্য !” 


ম্যামের দিক থেকে কিছু একটা কথা অন্তত এক্সপেক্ট করছিল রতন, কিন্তু কোনো কিছু না শুনতে পেয়ে পিছন দিকে তাকাল একবার রতন। ম্যাডাম এর মুখে বিরক্তির লেশমাত্র নেই, বরং হাঁ করে তাকিয়ে রয়েছে সামনের দিকে মুগ্ধ দৃষ্টিতে। ম্যাডামের চোখ অনুসরণ করে সামনের দিকে তাকাল ও , প্রাসাদোপম বাড়ি। বোঝাই যাচ্ছে অনুষ্ঠান উপলক্ষে বাড়িটি ভাড়া দেওয়া হয়। চোখ মেলে খানিকক্ষণ দেখলো রতনও। সামনের মহিলাদের ভিড়, সাজগোজ করা ছোট ছেলেপুলেদের নাচানাচি পেরিয়ে গাড়ি কচ্ছপের গতিতে এগোতে লাগল। মুগ্ধ দৃষ্টিতে চেয়ে ছিল দূর্গা। এই বাড়িতেই ওর আর পার্থর রিসেপশন হয়েছিল। আশেপাশের মানুষগুলোও এরকমই খুশি ছিল ওদের নিয়ে। কত নাচ গান হৈ হুল্লোড় কত কত স্মৃতি… কি সুন্দর আলো ঝলমলে ছিল সেই সন্ধ্যেটা। সব বদলেছে কিন্তু এই বাড়িটার সাজ, চাকচিক্য এতটুকু কমেনি, একইভাবে স্বদম্ভে দাঁড়িয়ে। বুকের ভিতরটা যেন একটু বেশিই মোচড় দিচ্ছে, কেন এভাবে এগিয়ে চলেছে ও? কিসের মোহ কিসের টান কে জানে কিন্তু নিজেকে কিছুতেই আটকাতে পারছে না আর দূর্গা।

           *****************

গাড়িটা অতিকষ্টে পেরোল ওই জায়গাটা, কিন্তু একটু গতি নিতেই আবার বাধা। 


“দাঁড়াও, দাঁড়াও, এখানটাতেই দাঁড়াও…”

ম্যাডামের কথা মত আবার গাড়ি দাঁড় করাল উত্তম। ম্যাডাম এর মতিগতি বোঝা ভার, আড়চোখে ম্যাডাম এর দিকে তাকাল ও। কিন্তু এবার ও আর অবাক না হয়ে পারল না। কাজপাগল, রাগী, মেজাজি মানুষটার চোখ মুখ আজ এরকম কেন? দামি সানগ্লাসের নীচ থেকে গালের উপর বয়ে চলা অশ্রুধারা চোখ এড়াল না রতনের। গাড়ির ভিতরেও রোদ চশমা পরে থাকার কারণটা কি বুঝতে বাকি রইল না আর ওর। এই সময় কিছু না বলাই ভালো। ধৈর্য ধরে ম্যাডামের অর্ডারের অপেক্ষা করতে লাগল ও। 


দূর্গা যেন আজ ঠিক এই কারণেই এখানে এসে উপস্থিত, সারা বিশ্ব চরাচরে কি হচ্ছে এসব নিয়ে যার কোন মাথা ব্যথা নেই, সে আজ থেকে এগারো বছর আগের ফেলে যাওয়া খড়কুটোর সামনে এসে আরেকবার দাঁড়াবে বলেই যেন এসেছে। সাদামাটা দোতলা পেস্তা রঙের বাড়ি, বাড়ির নীচের গ্যারাজের দরজাটা খুলে গেল, একটা হাত দরজাটা ভিতর থেকে খুলে আবার চলে গেল। এই হাত বহু পরিচিত দূর্গার, হাতের উপরের কাটা দাগ, হাতে পরা চেনটা, সবটুকু চেনে ও। নিজের হাত মুঠো করে নিল অয়ন্তিকা, কিছুতেই ও react করবে না, জাস্ট একবার দেখেই চলে যাবে। ব্যস। দমটা যেন বন্ধ হয়ে আসছে আসতে আসতে, এই ac এর ঠান্ডা বাতাসও বিরক্তিকর লাগছে যেন। চারপাশটা যেন থমকে গেছে কয়েক মুহূর্তের জন্য, গাছের পাতার নড়াচড়া থেকে পাখির ডাক, প্রকৃতির খোলা হাওয়া থেকে শ্বাস প্রশ্বাস সব যেন এক বিন্দুতে এসে থমকে গেছে। অবশেষে একজন বছর ৪৫-৫০ এর মানুষ বেরিয়ে এলো বাইকটা নিয়ে। কাঁচা পাকা চুল, পরনে আকাশি রঙের শার্ট, হেলমেটটা সাইড এ নিয়ে বাইকটা নিয়ে বেরোলো মানুষটা, এই এত গুলো বছরে চুল দাড়িতে পাক ধরার সাথে সাথে বদলে গেছে বাইকের ব্র্যান্ড, রং , চোখে উঠেছে চশমা। নিষ্পলক দৃষ্টিতে চেয়ে ছিল দূর্গা, ওর পার্থকে দেখে। না না , আর তো ওর পার্থ নয় , হঠাৎ পিছন ফিরে তাকাল পার্থ, ভাবখানা এমন কারো যেন পিছনের সিট টায় বসার কথা ছিল, সে কি উঠতে পারল? ভারী মিষ্টি অথচ তীক্ষ্ণ গলার আওয়াজে চমকে তাকালো গ্যারাজের ভিতর দিকে দূর্গা। যেন নিশ্চিন্ত হতে চাইছে ওর বসার সিটটা পাকাপাকি ভাবে কেউ দখল করে নিয়েছে কিনা, অবশেষে তিনি এলেন। কত বয়স হবে আর, ছয় সাত বছর বড় জোর। পরনে স্কুল ড্রেস, মাথায় ঝুঁটি বাঁধা। বাবার মুখের সাথে ভীষণ মিল। মুগ্ধ হয়ে দেখছিল দূর্গা, বাবার পিছনে বসে বাবাকে জড়িয়ে বসল সে, তবে তাকে বাইকে চাপিয়ে দিতে ছিল আরো একজন। বোধ করি এই-ই অর্জুনের বাইকের পিছনের সিট টার চিরস্থায়ী দাবিদার। হাতে শাঁখা পলা, নিতান্ত সাধারণ সাজপোশাকে একজন অতি ব্যস্ত গৃহিনী। পার্থর পরিবার , পার্থর সুখী পরিবার! একটা অদ্ভুত প্রশান্তি যেন ছড়িয়ে যাচ্ছে দূর্গার মনটায়। আর সেই বিরক্তিটা, সেই কষ্টটা হচ্ছে না। না আর ওর চোখে জল ও নেই। পার্থ ভালো আছে যে। বাবা মা কেমন আছেন কে জানে। বাইকে স্টার্ট দেয়ার আগে কি কারণে কে জানে রাস্তার উল্টোদিকের দাঁড়ানো দামি গাড়িটার দিকে এবার চোখ পড়ল পার্থর। ও কি কিছু বুঝতে পারল? না না ,তা কি করে সম্ভব, ও তো কাঁচের এপারে, আর কাঁচ ভেদ করে এপারের মানুষটাকে তো দেখতে পাওয়ার কথা নয়। এতক্ষণ যে এখানে এভাবে এরকম একটা গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে বলে কি ওর সন্দেহ হচ্ছে ? পার্থ বাইকটা স্ট্যান্ডে দিয়ে এদিকেই তো আসছে। না না, ও কিছুতেই ধরা দেবে না, এবার ওর যাওয়া উচিত, ইচ্ছে না করলেও যেতেই হবে ,আর না, কিছুতেই না। রতনকে দ্রুত গাড়ি স্টার্ট দিতে বলল দূর্গা । শেষবারের মতন পার্থকে দুচোখ ভরে দেখে নিয়ে বিদায় জানাল ও নিঃশব্দে।

          ******************* 


“সামনে একটা খুব সুন্দর ড্যাম আছে রতন , এই রাস্তাটা ধরে এগিয়ে ডানদিকে। চলো তো। তারপর বেরিয়ে যাবো আমরা এখান থেকে।” 


পার্থ হয়তো দূর্গার উপস্থিতি অনুভব করেছিল, হয়তো বা নয়। কিন্তু দূর্গার মনটা আজ আজ অনেক হালকা লাগছে। শান্ত লাগছে নিজেকে অনেকটা, ভাগ্যিস ও এসেছিলো! 


এই ড্যামটা ওর প্রাক্তন শ্বশুরবাড়ি থেকে খুব একটা দূর নয়, আধ ঘন্টার রাস্তা। বিয়ের পর প্রথম ওরা দুজন এখানেই বেড়াতে এসেছিল, ভ্যালেন্টাইন্স ডে ছিল সেদিন, আজ আবারও সেই একই জায়গায় সুবিস্তৃত জলের সামনে দাঁড়িয়ে ও একা। যতদূর দেখা যায় শুধুই জল আর ধোঁয়া। চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল ও কিছুক্ষণ, একান্তে। নিজের ব্যাগের অব্যবহৃত খাপটা থেকে বের করল ও আংটিটা। যেটা এতদিন ধরে বয়ে নিয়ে চলছিল ও। এই জন্যই কি কিছুতেই মুক্ত হতে পারছিল না ও এত বছরেও? এই জন্যই কি মনের ভিতর থেকে পাথরটা সরাতে পারছিল না কোনোদিন, হাতে নিল আংটিটা ,বৌভাতের রাত্রে ওর অনামিকায় সযত্নে এই আংটিটাই পরিয়ে দিয়েছিল ওর পার্থ। একটা ছোট্ট লাল পাথর বসানো আংটিটা আজ অব্দি নিজের কাছছাড়া করতে পারেনি ও। কিন্তু এবার সময় এসে গেছে। আংটিটা হাতে নিয়ে চোখদুটো বুজে ফেলল দূর্গা। পরপর স্মৃতি গুলো ভিড় করছিল চোখে সিনেমার মতো। আঁকড়ে রয়েছে এখনো আংটিটা, কিন্তু এই বন্ধনের তো আর কোনো দাম নেই। আর আঁকড়ে থেকে লাভ কি। ওরা দুজনেই তো নিজেদের জীবনে এগিয়ে গেছে অনেকটা, তারপর এই বন্ধন তো নিষ্প্রয়োজন। সময় অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে , হাতের মুঠো আলগা করতেই হবে ওকে, আর কিছু ভাববে না ও, শুধু পার্থর হাসি মুখটা ভেসে উঠলো ওর চোখে, ওর সুখী পরিবারের ছবিটা ভেসে উঠল ওর চোখে, না আর অসুবিধা হয়নি। হাতের মুঠো আলগা হলো অবশেষে, হারিয়ে গেল জলের তলায় এতদিন ধরে আঁকড়ে রাখা মুহূর্তটা। একটা বড় কাজ সম্পন্ন হলো আজ। আজ ও সত্যি মুক্ত। না আর কোনো কষ্ট নেই বরং অনেকটা হালকা লাগছে, হাসল এতক্ষণে দূর্গা।"তোমার সাথে এই জন্মে সংসার হলোনা না হয়, কিন্তু অন্য কোনো পৃথিবীতে কখনো কোথাও, অন্য কোনো জন্মে, আমাদের দেখা হবে আবার, আবার আমাদের মধ্যে সংসার খেলা হবে। “ 


ফোনটা বেজে উঠলো, ডিসপ্লেতে নাম ভেসে উঠল রমানাথ কৃষ্ণন, দুর্গার পতিদেব।

"হ্যালো “। গাড়ি তখন আনন্দপুর ছাড়িয়ে হাইওয়ের পথে। আর দুর্গার মনে চলছে -

"প্রিয় প্রাক্তন,

ধন্যবাদ তোমায়

তুমি ভুলিয়ে দিয়েছো আবেগের মাখামাখি,

কঠিন করে দিয়েছো মন।

ভালো থেকো প্রিয় প্রাক্তন,

ভালো থেকো আজীবন।"   

~~~~~~~~~~~~~~~সমাপ্ত~~~~~~~~~~~~~~~

Go ahead for next step. Then successful in life.
NextGen Digital... Welcome to WhatsApp chat
Howdy! How can we help you today?
Type here...